আষাঢ়ের এক রাতে গল্পের মূলভাব ও বিষয়বস্তু

হালিমা খাতুনের “আষাঢ়ের এক রাতে” গল্পটি একটি ছোট্ট ছেলে আবুর সাহসিকতা এবং তার মাছ ধরার নেশাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। নিচে আষাঢ়ের এক রাতে গল্পের মূলভাব ও বিষয়বস্তু দেওয়া হল।

আষাঢ়ের এক রাতে গল্পের মূলভাব

হালিমা খাতুনের “আষাঢ়ের এক রাতে” গল্পটি আবু নামের একটি ছোট ছেলের সাহসিকতা ও মাছ ধরার নেশাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। আবু তার বড় ভাই সাজেদ ও বন্ধুদের সঙ্গে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য লুকিয়ে নৌকায় চেপে বসে। আষাঢ় মাসের বর্ষার রাতে তারা মৌরিবিলে যায়, যেখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। আবু নৌকার খোলের মধ্যে লুকিয়ে থাকায় কেউ তাকে দেখতে পায়নি। কিছুক্ষণ পর সাজেদ আবুকে খুঁজে পায় এবং রেগে যায়, কিন্তু আবুর মাছ ধরার ইচ্ছা দেখে তাকে থাকতে দেয়। আবু তার বানানো বড়শি ও তেলাপোকার টোপ দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণ পর তার বড়শিতে একটি বিশাল বোয়াল মাছ ধরা পড়ে। তিনুর সাহায্যে সে মাছটি নৌকায় তোলে। সাজেদ ও বন্ধুরা ফিরে এসে আবুর এই সাফল্য দেখে অবাক হয়।

আষাঢ়ের এক রাতে গল্পের বিষয়বস্তু

আবু একটি ছোট্ট ছেলে, তার বয়স মাত্র দশ বছর। তার বড় ভাই সাজেদ এবং সাজেদের বন্ধু বিপুল ও বায়েজিদ মাছ ধরার খুব নেশা। তারা প্রায়ই মাছ ধরতে যায়। কিন্তু আবুকে তারা কখনও সঙ্গে নেয় না, কারণ সে খুব ছোট। আবুরও মাছ ধরার খুব শখ, কিন্তু তাকে কেউ নিয়ে যেতে চায় না।

একদিন আষাঢ় মাসে, বর্ষার রাতে সাজেদ এবং তার বন্ধুরা মাছ ধরার জন্য মৌরিবিলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। আবু শুনে মনে মনে ঠিক করে যে সে তাদের সঙ্গে যাবে। সে বাড়ির কাউকে কিছু না বলে চুপিচুপি নৌকার খোলের মধ্যে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। সাজেদ এবং তার বন্ধুরা কিছুই জানতে পারে না।

সাজেদ, বিপুল, বায়েজিদ এবং নৌকা চালানো তিনু মৌরিবিলের দিকে রওনা দেয়। কিছুদূর যাওয়ার পর বৃষ্টি শুরু হয়। তারা ছাতা মাথায় দিয়ে নৌকা চালাতে থাকে। সন্ধ্যা হয়ে গেলে তারা হারিকেন জ্বালায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হারিকেনের তেল ফুরিয়ে যায়। তখন সাজেদ নৌকার খোলের মধ্যে তেলের বোতল খুঁজতে গিয়ে আবুকে দেখে ফেলে। আবু লুকিয়ে ছিল, কিন্তু এখন সে ধরা পড়ে গেছে।

সাজেদ আবুকে দেখে খুব রেগে যায়। সে আবুকে জিজ্ঞাসা করে, “তুই এখানে কী করছিস? বাড়িতে সবাই তোকে খুঁজছে। আজ তোকে পিটিয়ে ঠান্ডা করব!” আবু কাঁদতে কাঁদতে বলে, “দাদা, আমি মাছ ধরতে চাই। আমাকে মারো না। আমি লুকিয়ে এসেছি, কিন্তু কালুকে বলে এসেছি, কেউ খুঁজলে সে জানাবে।”

সাজেদ আবুর কথা শুনে একটু নরম হয়ে যায়। সে বলে, “ঠিক আছে, তুই থাক। কিন্তু তুই ছোট, তোর কীভাবে মাছ ধরবে?” আবু তখন তার বড়শি এবং টোপ বের করে দেখায়। সাজেদ এবং তার বন্ধুরা আবুর বড়শি দেখে হাসে। আবুর বড়শি কেরোসিনের টিনের আংটা দিয়ে বানানো, আর টোপ হল তেলাপোকা। তারা হেসে বলে, “এটা দিয়ে তুই কুমির ধরতে পারবি!”

তবে সাজেদ আবুকে নৌকায় থাকতে দেয়। তারা নিজেরা জাল নিয়ে মাছ ধরতে যায়। আবু নৌকায় বসে তার বড়শি দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করে। সে বড়শিতে তেলাপোকার টোপ গেঁথে পানিতে ফেলে দেয়। কিছুক্ষণ পর সে দেখে যে তার বড়শিতে কিছু একটা ধরা পড়েছে। সে তিনুকে ডাকে, “তিনু ভাই, এসো, আমার বড়শিতে বড় মাছ ধরা পড়েছে!”

তিনু প্রথমে বিশ্বাস করে না, কিন্তু পরে সে আবুর সঙ্গে বড়শির দড়ি টানতে শুরু করে। তারা দুজনে মিলে টানাটানি করে শেষে একটি বিশাল বোয়াল মাছ ধরে। মাছটি এত বড় যে নৌকা প্রায় ডুবে যাবার মতো অবস্থা হয়। তারা মাছটিকে নৌকায় তোলার পর আবু খুব খুশি হয়।

এদিকে সাজেদ এবং তার বন্ধুরা জালে কিছুই ধরতে পারেনি। তারা ফিরে এসে আবুর বোয়াল মাছ দেখে খুব অবাক হয়। সাজেদ আবুকে জিজ্ঞাসা করে, “এই বড় মাছ তুই কীভাবে ধরলি?” আবু গর্বিত হয়ে বলে, “আমি নিজেই ধরেছি!”

সবাই আবুর সাহসিকতা এবং মাছ ধরার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়। তারা বাড়ি ফিরে যায় এবং আবুর এই সাফল্যে সবাই খুব খুশি হয়।

আরও পড়ুনঃ সাত ভাই চম্পা গল্পের মূলভাব ও বিষয়বস্তু

Related Posts

Leave a Comment