চার্লস ডিকেন্সের ডেভিড কপারফিল্ড (আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের রূপান্তরিত) একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস যেখানে দারিদ্র্য, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, এবং শেষ পর্যন্ত আত্মনির্ভরতার গল্প বলা হয়েছে। নিচে ডেভিড কপারফিল্ড গল্পের মূলভাব ও বিষয়বস্তু দেওয়া হল।
ডেভিড কপারফিল্ড গল্পের মূলভাব
ডেভিড কপারফিল্ড চার্লস ডিকেন্সের একটি কালজয়ী উপন্যাস, যেখানে অনাথ ডেভিডের সংগ্রামী জীবনের গল্প বলা হয়েছে। জন্মের আগেই বাবাকে হারানো ডেভিড মা ও গৃহকর্মী পেগোটির স্নেহে বড় হয়, কিন্তু মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর সৎ বাবা মার্ডস্টোনের অত্যাচারে তার শৈশব অন্ধকার হয়ে যায়। নির্মম শাস্তি পেয়ে তাকে সালেম হাউস স্কুলে পাঠানো হয়, যেখানে ক্রিকল সাহেবের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। স্কুলে মেল সাহেবের মতো দয়ালু শিক্ষক ও স্টিরফোর্ডের মতো বন্ধু পেলেও পরে তাকে লন্ডনের ওয়াইন ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে বাধ্য হয়। দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে ডেভিড খালা বেটসি ট্রটউডের আশ্রয় নেয়, যার সহায়তায় সে ডক্টর স্ট্রংয়ের স্কুলে পড়াশোনা করে। বড় হয়ে সে আইনজীবী ও লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, প্রথমে ডোরাকে বিয়ে করলেও তার মৃত্যুর পর শৈশবের বন্ধু অ্যাগনেসকে বিবাহ করে। এই উপন্যাসে ডেভিডের কঠোর সংগ্রাম, ভালোবাসা ও শেষ পর্যন্ত সাফল্য ফুটে উঠেছে।
ডেভিড কপারফিল্ড গল্পের বিষয়বস্তু
ডেভিড কপারফিল্ডের জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডে। বাবা মারা যান তার জন্মের আগেই। মা ক্লারা ও গৃহকর্মী পেগোটির স্নেহে তার শৈশব কাটে সুখে। কিন্তু মা যখন নিষ্ঠুর স্বভাবের মার্ডস্টোন সাহেব-কে বিয়ে করেন, ডেভিডের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। মার্ডস্টোন ও তাঁর বোন ডেভিডকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। একদিন ডেভিড মার্ডস্টোনের হাতে কামড় দিলে তাকে সালেম হাউস নামক একটি কঠোর আবাসিক স্কুলে পাঠানো হয়।
সালেম হাউসে ক্রিকল সাহেব নামক এক অত্যাচারী প্রধান শিক্ষক ডেভিডের পিঠে “সাবধান, এটা কামড়ায়” লেখা বোর্ড বেঁধে দেয়। স্কুলের ছাত্ররা তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করলেও স্টিরফোর্ড নামের এক বড় ছেলে তার বন্ধু হয়। কিন্তু স্টিরফোর্ডই পরে মেল সাহেব নামক এক দরিদ্র কিন্তু দয়ালু শিক্ষককে অপমান করে স্কুল থেকে তাড়ানোর কারণ হয়। ডেভিড গোপনে মেল সাহেবের বাঁশির সুর শুনে কাঁদে—যেন তার নিজের কষ্টের প্রতিধ্বনি।
স্কুল থেকে ছুটি কাটাতে বাড়ি ফিরে ডেভিড জানতে পারে, তার মা ও newborn ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মার্ডস্টোন তাকে লন্ডনের একটি ওয়াইন ফ্যাক্টরিতে কাজে পাঠায়। মাত্র ১০ বছর বয়সে ডেভিডকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। সেখানে মি. মিকাওবার নামক এক দিবাস্বপ্নদর্শী ব্যক্তির সাথে তার বন্ধুত্ব হয়, যিনি সর্বদা ঋণে ডুবে থাকেন কিন্তু আশাবাদী। শেষে মিকাওবার পরিবার চলে গেলে ডেভিড একা পড়ে যায় এবং তার খালা বেটসি ট্রটউডের খোঁজে পায়ে হেঁটে রওনা দেয়।
ডেভিডের খালা বেটসি ট্রটউড একজন স্বাধীনচেতা মহিলা। প্রথমে তিনি ডেভিডকে গ্রহণ না করলেও পরে তাকে আদর করে বাড়িতে রাখেন। ডেভিড ডক্টর স্ট্রংয়ের স্কুলে ভর্তি হয় এবং এগনস নামের এক বাড়িওয়ালার বাড়িতে থাকতে শুরু করে। সেখানে এগনসের মেয়ে ডোরায়ের প্রেমে পড়ে ডেভিড—যে প্রেম পরবর্তীতে তার প্রথম বিবাহে রূপ নেয়।
বড় হয়ে ডেভিড আইনজীবী হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয় এবং লেখক হিসেবেও নাম করে। কিন্তু তার প্রথম প্রেমিকা ডোরা অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পরে সে তার শৈশবের বন্ধু এগনসের মেয়ে অ্যাগনেসকে বিয়ে করে, যে সবসময় তাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করেছিল। ডেভিড শেষ পর্যন্ত একজন সফল লেখক ও পরিবার মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
আরও পড়ুনঃ হেমাপ্যাথি এ্যালাপ্যাথি গল্পের মূলভাব ও বিষয়বস্তু