সাত ভাই চম্পা গল্পের মূলভাব ও বিষয়বস্তু

“সাত ভাই চম্পা” গল্পটি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের লেখা একটি জনপ্রিয় বাংলা লোককাহিনী। যেখানে নিষ্ঠুরতা, ঈর্ষা এবং অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও ভালোবাসার জয় দেখানো হয়েছে। নিচে সাত ভাই চম্পা গল্পের মূলভাব ও বিষয়বস্তু দেওয়া হল।

সাত ভাই চম্পা গল্পের মূলভাব

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের “সাত ভাই চম্পা” গল্পে এক রাজার সাত রানির মধ্যে ছোট রানিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন রাজা। ছোট রানির সাত ছেলে ও একটি মেয়ে জন্ম নিলে ঈর্ষান্বিত বড় রানিরা শিশুদের হত্যা করে পাঁশগাদায় পুঁতে ফেলে এবং ছোট রানিকে রাজপ্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দেয়। কিছুদিন পর পাঁশগাদায় সাত চাঁপা ও একটি পারুল ফুল গাছ জন্মায়। ফুলগুলি কথা বলে এবং জানায় যে শুধুমাত্র ছোট রানিই তাদের তুলতে পারবেন। ছোট রানি ফুল তুললে সাত ছেলে ও মেয়ে জীবিত হয়ে ফিরে আসে। রাজা বড় রানিদের শাস্তি দেন এবং ছোট রানিকে আবার রাজপ্রাসাদে ফিরিয়ে আনেন। গল্পটি ন্যায়বিচার, ভালোবাসা ও ঈর্ষার পরিণতির শিক্ষা দেয়।

সাত ভাই চম্পা গল্পের বিষয়বস্তু

এক রাজার সাত রানি ছিলেন। বড় রানিরা খুব অহংকারী ছিলেন এবং ছোট রানিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন। কিন্তু ছোট রানি ছিলেন খুব শান্ত ও ভদ্র। এই কারণে রাজা তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। রাজার কোনো সন্তান ছিল না, তাই তিনি খুব দুঃখিত ছিলেন। একদিন ছোট রানির গর্ভে সন্তান আসে। রাজা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ঘোষণা করেন যে, রাজভাণ্ডার খুলে দেওয়া হবে এবং সবাই মিষ্টি ও উপহার নিতে পারবে।

বড় রানিরা ছোট রানির প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠেন। ছোট রানির সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় তারা আঁতুড়ঘরে যায় এবং রাজাকে ভুল সংকেত দেয়। তারা শিকল টেনে রাজাকে ডেকে আনে, কিন্তু কোনো সন্তান জন্ম নেয়নি বলে মিথ্যা কথা বলে। এভাবে তারা বারবার রাজাকে বোকা বানায়। শেষে ছোট রানির সাত ছেলে ও একটি মেয়ে জন্ম নেয়, কিন্তু বড় রানিরা নিষ্ঠুরভাবে সেই শিশুদের হত্যা করে পাঁশগাদায় (জঞ্জালের স্তূপ) পুঁতে ফেলে। ছোট রানিকে তারা মিথ্যা বলে যে তার সন্তানরা ইঁদুর ও কাঁকড়ায় পরিণত হয়েছে। শোকে ছোট রানি অজ্ঞান হয়ে যান।

বড় রানিরা রাজাকে মিথ্যা বলে যে ছোট রানির সন্তানরা ইঁদুর ও কাঁকড়ায় পরিণত হয়েছে। রাজা রাগান্বিত হয়ে ছোট রানিকে রাজপ্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দেন। ছোট রানি দাসীর মতো জীবনযাপন করতে বাধ্য হন এবং পথে পথে ঘুরতে থাকেন।

কিছুদিন পরে, পাঁশগাদায় সাতটি চাঁপা ফুল ও একটি পারুল ফুল গাছ জন্মায়। রাজার মালি ফুল তুলতে গেলে ফুলগুলি কথা বলে এবং জানায় যে শুধুমাত্র ছোট রানিই তাদের তুলতে পারবেন। ফুলগুলি বলে, “আগে রাজা আসুক, তারপর বড় রানি আসুক, তারপর মেজো রানি আসুক…” কিন্তু কেউই ফুল তুলতে পারে না। শেষে ছোট রানিকে আনা হয়।

ছোট রানি ফুল তুলতে গেলে সাত চাঁপা ফুল ও পারুল ফুল থেকে তার সাত ছেলে ও একটি মেয়ে জীবিত হয়ে ফিরে আসে। তারা সবাই ছোট রানিকে “মা” বলে ডাকে এবং তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাজা বুঝতে পারেন যে বড় রানিরা নিষ্ঠুরতা করেছিলেন। তিনি বড় রানিদের শাস্তি দেন এবং ছোট রানিকে আবার রাজপ্রাসাদে ফিরিয়ে আনেন।

সবাই মিলে সুখে বসবাস করতে থাকে। রাজপুরীতে আবার আনন্দ ফিরে আসে, এবং ছোট রানি ও তার সন্তানরা রাজার ভালোবাসা ও স্নেহে জীবন কাটায়।

আরও পড়ুনঃ আলাউদ্দিনের চেরাগ গল্পের মূলভাব ও বিষয়বস্তু

Related Posts

Leave a Comment